অভিজ্ঞতা ও সম্পর্কের এক অম্লান গল্প
২০১৭ সালের জুলাইয়ে কার্লকেয়ার-এ যোগদানের পর মাহফুজুল হক মিরাজ স্যারের সাথে আমার প্রথম সাক্ষাৎ। শুরুতে ভেবেছিলাম, চেয়ারম্যানের সাথে সরাসরি যুক্ত এমন একজন সফল ব্যক্তির সাথে কাজ করা চ্যালেঞ্জিং হবে। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, তাকে যত কাছে থেকে দেখেছি, বুঝতে পেরেছি—নেতৃত্বের মহত্ত্ব তার মানবিকতায় নিহিত। আজ ৮ বছর পর দাঁড়িয়ে বলতে পারি, তার সান্নিধ্যের প্রতিটি ক্ষণ জীবনের অমূল্য পাঠ ছিল।
যে গুণগুলো তাকে অনন্য করে তুলেছে:
১. সরল যোগাযোগের সুযোগ: কোনো স্তর বা প্রোটোকল নয়, স্যার সবসময়ই কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত। প্রতিটি প্রশ্ন, সমস্যা বা পরামর্শ নিয়ে সরাসরি তার দ্বারস্থ হওয়া যেত। তার কাছ থেকে কখনও অবহেলা বা দূরত্বের ছোঁয়া পাইনি।
২. মাটির মানুষ: পদমর্যাদাকে কখনও অস্ত্র করেননি তিনি। সাধারণ জীবনযাপন, সহজ কথাবার্তা, সবার সাথে আড্ডা—যেন পরিচয়ের কোনো দেয়ালই গড়েননি। তার বিশ্বাস ছিল, নেতা হওয়া মানে সবার থেকে আলাদা নয়, বরং সবার মধ্যে মিশে যাওয়া।
৩. সহমর্মিতার হাত: শুধু পেশাগত নয়, ব্যক্তিগত সংকটেও তিনি ছিলেন নির্ভরতার স্তম্ভ। কোভিডের অন্ধকার দিনগুলোতে প্রতিদিনের ফোন, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার খোঁজ—মনে হয়েছিল, পরিবারের সদস্যের মতোই আত্মীয়তা।
৪. নেতৃত্বের আদর্শ: ক্ষমতার মোহ নয়, মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাই তার নেতৃত্বের ভিত্তি। প্রতিটি কর্মীকে তিনি সমান চোখে দেখতেন, যা আমাদের মধ্যে ঐক্য ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছিল।
৫. মানুষের প্রতি দরদ: ২০১৮ সালের চাঁদপুর ট্যুর থেকে শুরু করে পরবর্তী সব সফরে তার আন্তরিকতা চোখে পড়ার মতো ছিল। কাজের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি আমাদের জীবনের গল্প শুনতেন, বোঝার চেষ্টা করতেন। এটাই সম্পর্ককে করেছিল অটুট।
৬. অন্তপ্রেরণার উৎস: তার একটি উৎসাহবাক্য আমাদের দিন বদলে দিত। কর্মক্ষেত্রে তার উপস্থিতিই ছিল প্রেরণার ঝর্ণা—যা অলসতাকে ভাসিয়ে নিয়ে যেত।
৭. বিশ্বস্ততার প্রতীক: "কর্মীই সংস্থার প্রাণ"—এই মন্ত্রে তিনি বিশ্বাসী। ব্যক্তিগত বিপদে-আপদে তার পাশ পাওয়া, চাকরির চেয়ে মানুষের সুখকে প্রাধান্য দেওয়া—এসবই তাকে করেছে শ্রদ্ধার আসনে।
৮. সফর ও স্মৃতির মেলবন্ধন: রাঙ্গামাটি, কক্সবাজার, কুয়াকাটার যাত্রাগুলো শুধু পেশাগত সাফল্য নয়, গড়ে তুলেছিল আত্মার বন্ধন। চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে জীবনদর্শনে আলোচনা আজও মনে গাঁথা।
৯. হৃদয়ের গভীরে পৌঁছানোর ক্ষমতা:
ভালো বস শুধু কথা বলেন না, শোনেন। স্যার কখনও আমাদের অনুভূতিকে উপেক্ষা করেননি। কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি দলের মতামতকে প্রাধান্য দিতেন, যা আমাদের মনে করিয়ে দিত—আমরা শুধু যন্ত্র নই, মানুষ।
১০. দূরদর্শী চিন্তা:
তিনি শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যতের ছবিও দেখতেন। প্রতিটি প্রকল্পে তার দূরদর্শী পরিকল্পনা আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে আজকের সিদ্ধান্ত আগামীকালের ভিত্তি গড়ে।
১১. ধৈর্য্য ও সহনশীলতা:
ভুল হলে কখনও অপমান নয়, বরং সংশোধনের সুযোগ দিতেন। তার বিশ্বাস ছিল—ভুলই শেখার সবচেয়ে বড় মাধ্যম। এই ধৈর্য্য আমাদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
১২. কৃতজ্ঞতা প্রকাশ:
ছোট সাফল্যেও তিনি সবার প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দিতেন। একটি "ধন্যবাদ" বা "অসাধারণ" শব্দে আমাদের মনে জ্বালাতেন উৎসাহের আলো।
১৩. কাজ ও জীবনের ভারসাম্য:
কর্মক্ষেত্রে কঠোর হলেও তিনি কখনও ব্যক্তিগত সময়কে বিঘ্নিত হতে দেননি। উৎসব, পারিবারিক অনুষ্ঠানে তার আন্তরিকতা প্রমাণ করত—তিনি শুধু বস নন, একজন সংবেদনশীল মানুষ।
১৪. নিজের চেয়ে দলকে বড় করা:
তার সাফল্যের গল্পে "আমি" নয়, সবসময় "আমরা" শব্দটাই প্রাধান্য পেত। এই নিঃস্বার্থ মনোভাব তাকে করেছে সত্যিকারের নেতা।
১৫. সংঘাত নিরসনের দক্ষতা:
দলের মধ্যে মতবিরোধ হলে তিনি হতেন শান্তির দূত। কারও পক্ষ না নিয়ে সমস্যার মূলে গিয়ে সমাধান খুঁজতেন, যা শেখায়—সংঘাত নয়, সমাধানই লক্ষ্য।
১৬. উত্তরাধিকার গড়ে তোলা:
তিনি চেয়েছেন যেন তার পরে আরও দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে উঠুক। তাই সবসময় জুনিয়রদের মেন্টরশিপ দিয়ে গেছেন, নিজেকে অপরিহার্য ভাবার বদলে দলকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলেছেন।
১৭. নম্রতা ও মহত্ত্বের মিশেল:
এত সাফল্যেও তিনি কখনও আত্মম্ভরিতায় ভোগেননি। বরং বলতেন, "যত জ্ঞান বাড়ে, ততই বোঝা যায়—জানার শেষ নেই।" এই নম্রতাই তাকে মহান করেছে।
মাহফুজুল হক মিরাজ স্যারের ছায়ায় এক যাত্রা:
এই দীর্ঘ পথচলায় তিনি শুধু বস নন—গুরু, বন্ধু, পথপ্রদর্শক। তার কাছ থেকে শিখেছি কীভাবে কাজকে ভালোবাসতে হয়, কীভাবে মানুষকে শ্রদ্ধা করতে হয়। তার শিক্ষা শুধু অফিসের ডেস্কে সীমাবদ্ধ নেই, বরং জীবনদর্শনের অধ্যায় হয়ে আছে।
আজকের এই দিনে:
প্রিয় স্যার, আপনার জন্মদিনে কৃতজ্ঞতা জানাই সেই মহান হৃদয়ের প্রতি, যা আমাদের শিখিয়েছে আদব-কায়দা, বিশ্বাস ও মানবিকতার মর্ম। আপনার পথচলা শুধু আপনার নয়, আমাদের সবার জীবনের দিকনির্দেশ। আপনি দেখিয়েছেন, সত্যিকারের নেতা হওয়ার অর্থ ক্ষমতা নয়—দায়িত্ব। মানুষ হিসাবে বাঁচার অর্থ শুধু নিজের জন্য নয়, সবার জন্য ভালোবাসা। শুভ জন্মদিন। আপনার প্রতিটি পদক্ষেপ হোক সাফল্য ও সুখের সোপান। ????
— আপনার স্নেহধন্য একজন সহকর্মী
Asiqur Rahman Milon
0 Comments